আপনার যে কোন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন!01958666697 তথ্য বহুল ইসলামিক সব আলোচনা পেতে আমাদের সাথেই থাকুন! ভর্তি চলছে, ক্বারী ইয়াকুব আলী রহ. ইসলামিয়া মাদরাসা,যোগাযোগ:01609216916 🧬 জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ নতুন বিপ্লব শুরু হতে যাচ্ছে...

রমজানে দোয়া ও আল্লাহর নৈকট্য লাভ

 

رمضان

রমজানে দোয়া ও আল্লাহর নৈকট্য
"রমজান মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস এবং দোয়া কবুলের মাস। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে রোজাদারের দোয়া কবুলের নিশ্চয়তা, ইফতারের বিশেষ মুহূর্ত এবং নফল ইবাদতের মাধ্যমে সওয়াব বৃদ্ধির ফজিলত। আল্লাহ কীভাবে আমাদের শাহরগের চেয়েও নিকটবর্তী এবং কেন তাঁর কাছে নিম্নস্বরে বিনয়ের সাথে প্রার্থনা করা উচিত, তার বিস্তারিত নির্দেশিকা।" 

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা সিয়াম সাধনার আলোচনার মাঝখানে দোয়ার গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, রোজাদারের জন্য দোয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

১. কুরআনের আয়াত: আল্লাহর নৈকট্য
আরবী:
﴿وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ﴾

অনুবাদ:
"আর আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, আমি তো নিকটেই আছি। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমাতে বিশ্বাস স্থাপন করে, যাতে তারা হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পারে।

দোয়া ইবাদতের অন্যতম প্রধান উপাদান
১. ইমাম আহমদ ও তিরমিজী নোমান বিন বশির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«الدُّعَاءُ هُوَ العِبَادَةُ»
(অর্থ: দুয়াই হলো ইবাদত।)
অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করেন: "তোমাদের রব বলেন: তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।"
তিরমিজীর অন্য একটি দুর্বল সূত্রে বর্ণিত: «الدُّعَاءُ مُخُّ العِبَادَةِ» (দুয়া হলো ইবাদতের মগজ)।
২. আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«لَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَمَ عَلَى اللَّهِ مِنَ الدُّعَاءِ"
(অর্থ: আল্লাহর কাছে দুয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কিছু নেই।)
৩. সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«لَا يَرُدُّ القَضَاءَ إِلَّا الدُّعَاءُ، وَلَا يَزِيدُ فِي العُمْرِ إِلَّا البِرُّ»
(অর্থ: দুয়া ছাড়া আর কিছুই তাকদির বা ফয়সালা পরিবর্তন করতে পারে না, আর নেক আমল ছাড়া আর কিছুই হায়াত বাড়াতে পারে না।)
৪. মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "দুয়া বিপদ থেকে রক্ষা করে যা নাজিল হয়েছে এবং যা নাজিল হয়নি। অতএব হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা দুয়াকে আঁকড়ে ধরো।"

হাদীসে এসছে,,, إِنَّ اللهَ حَيِيٌّ كَرِيمٌ، يَسْتَحْيِي إِذَا رَفَعَ الرَّجُلُ إِلَيْهِ يَدَيْهِ أَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا خَائِبَتَيْنِ

"নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত লজ্জাশীল ও দয়ালু। যখন কোনো ব্যক্তি তাঁর কাছে দুহাত তোলে (প্রার্থনা করে), তখন তিনি সেই হাত দুটিকে খালি ও ব্যর্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে লজ্জা বোধ করেন।"

২. দোয়ার আদব: নিম্নস্বরে ডাক দেওয়া

রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবীদের উচ্চস্বরে চিৎকার করে দোয়া করতে নিষেধ করেছেন।
হাদীস:
আরবী: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ، فَإِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا، إِنَّمَا تَدْعُونَ سَمِيعًا بَصِيرًا»
অনুবাদ: "হে লোকসকল! নিজেদের ওপর দয়া করো (কণ্ঠস্বর নরম করো)। তোমরা কোনো বধির বা অনুপস্থিত কাউকে ডাকছ না; বরং তোমরা ডাকছ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টাকে।"
৩. ইফতারের সময় দোয়ার ফজিলত
রোজাদারের দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে:
হাদীস ১: আরবী: «إِنَّ لِلصَّائِمِ عِنْدَ فِطْرِهِ دَعْوَةً لَا تُرَدُّ»
অনুবাদ: "ইফতারের সময় রোজাদারের এমন একটি দোয়া থাকে যা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।"
হাদীস ২: আরবী: «ثلاثة لا ترد دعوتهم: الإمام العادل، والصائم حين يفطر، ودعوة المظلوم»
অনুবাদ: "তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যখন সে ইফতার করে এবং মজলুমের (অত্যাচারিত ব্যক্তি) দোয়া।"
৪. দোয়া কবুলের নিশ্চয়তা ও প্রতিদান
আল্লাহ তায়ালা বান্দার দোয়াকে কখনো বৃথা যেতে দেন না।
হাদীস:
অনুবাদ: "যে কোনো মুসলিম যখন দোয়া করে, আল্লাহ তাকে তিনটি জিনিসের একটি অবশ্যই দান করেন:
১. হয়তো তার দোয়া দুনিয়াতেই দ্রুত কবুল করা হয়।
২. অথবা তা পরকালের জন্য জমা রাখা হয়।
৩. অথবা তার সমপরিমাণ কোনো বিপদ বা অকল্যাণ দূর করে দেওয়া হয়।"

সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ লজ্জাশীল। যখন কোনো বান্দা তাঁর কাছে হাত তোলে, তখন তিনি তাকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান।"

৫. দোয়া কবুলের অন্তরায়: তাড়াহুড়ো করা
দোয়া কবুল না হওয়ার একটি বড় কারণ হলো ধৈর্য হারানো।
হাদীস:
«لَا يَزَالُ يُسْتَجَابُ لِلْعَبْدِ مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ، مَا لَمْ يَسْتَعْجِلْ»
অনুবাদ: "বান্দার দোয়া ততক্ষণ কবুল হয় যতক্ষণ সে কোনো পাপ বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার দোয়া না করে এবং যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে।"
তাড়াহুড়োর ব্যাখ্যা: জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তাড়াহুড়ো কী?তিনি বললেন: "বান্দা বলে— আমি অনেক দুয়া করেছি, কিন্তু দেখলাম না যে আমার দুয়া কবুল হয়েছে। তখন সে ক্লান্ত হয়ে যায় এবং দুয়া করা ছেড়ে দেয়।"

আবু সাইদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কোনো মুসলমান যখন এমন দুয়া করে যাতে কোনো গুনাহ বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার কথা নেই, আল্লাহ তাকে তিনটির একটি দান করেন:
হয় তার দুয়া দুনিয়াতেই দ্রুত কবুল করেন।
অথবা তার জন্য পরকালে জমা রাখেন।
অথবা তার থেকে সমপরিমাণ কোনো অনিষ্ট দূর করে দেন। সাহাবীরা বললেন: তবে আমরা বেশি বেশি দুয়া করব। তিনি বললেন: "আল্লাহর ভাণ্ডার এর চেয়েও বড়।" 

রমজানের আমল

১. সেহরি ও শেষ রাতের আমল
তাহাজ্জুদ ও দোয়া: রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন। যেহেতু তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, তাই এই নিভৃত সময়ে নিম্নস্বরে তাঁর কাছে নিজের হাজত পেশ করুন। ক্ষাম প্রার্থনা করুন।
ইস্তিগফার: বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা, কারণ এটা মাগফেরাত ক্ষমার মাস।
২. দিনের বেলার আমল (সিয়াম ও কুরআন)
কুরআন তেলাওয়াত: রমজান কুরআনের মাস।
আসমানী কিতব সমূহ নাযিলের মাস। কুরআন আমাদের কিতাব,কুরআন হলো আল্লাহর হিদায়াত বা পথপ্রদর্শন। প্রতিদিন অন্তত কিছু অংশ তেলাওয়াত করা উচিত।
নিম্নস্বরে জিকির: কাজের ফাঁকে বা চলার পথে " সর্বদাই জিকিরের হালতে থাকা,অনর্থক কোন কথা বা কারো গীবত,চুগলখোরী না করা। বেশি বেশি
লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" পড়ুন, যা জান্নাতের অন্যতম একটি ভাণ্ডার। এটি আল্লাহর শক্তির ওপর আপনার পূর্ণ নির্ভরতা প্রকাশ করে।
৩. ইফতারের আগের বিশেষ সময়
দোয়ার গুরুত্ব: ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।
ধৈর্যের সাথে প্রার্থনা: "আমার দোয়া কবুল হচ্ছে না"—এমন তাড়াহুড়ো বা হতাশা বাদ দিয়ে বিনয়ের সাথে আল্লাহর কাছে চান। মনে রাখবেন, আল্লাহ আপনার হাত খালি ফেরত দিতে লজ্জা পান।
৪. সামাজিক ও ইবাদতগত আমল
দান-সদকা ও ইফতার করানো: মজলুম ও অভাবীদের সাহায্য করুন, কারণ তাদের দোয়া সরাসরি আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়।
তারাবি ও নফল নামাজ:
যত বেশি গোপনে ও ইখলাসের সাথে ইবাদত করা হয়, তা আল্লাহর নৈকট্যের তত নিকটবর্তী। তারাবীর নামাজ পড়া,তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব দেওয়া,ফরজ নামাজ কখনোই যেনো ছুটে না যায় খেয়াল করা। নফল ইবাদতের গুরুত্ব দেওয়া। আল্লাহর ভালোবাসা ও নৈকট্য লাভ (নফল ইবাদতের মাধ্যমে)
এটি একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে কুদসি যা সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে কীভাবে নফল ইবাদত বান্দাকে আল্লাহর প্রিয় করে তোলে।
আরবী হাদিস:
«...وَمَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ، وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ...»

অনুবাদ:
"...আমার বান্দা আমি যা তার ওপর ফরজ করেছি তার চেয়ে প্রিয় কোনো জিনিসের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে পারে না। আর আমার বান্দা সর্বদা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার কাছে আসতে থাকে, যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করি।" (সহিহ বুখারি)
রমজানে সওয়াব বৃদ্ধি (ফরজ ও নফল)
আপনি বায়হাকিতে বর্ণিত যে হাদিসটির কথা বলেছেন, সেটি মূলত সালমান আল-ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ খুতবার অংশ।
আরবী হাদিস:
«...مَنْ تَقَرَّبَ فِيهِ بِخَصْلَةٍ مِنَ الْخَيْرِ، كَانَ كَمَنْ أَدَّى فَرِيضَةً فِيمَا سِوَاهُ، وَمَنْ أَدَّى فِيهِ فَرِيضَةً كَانَ كَمَنْ أَدَّى سَبْعِينَ فَرِيضَةً فِيمَا سِوَاهُ...»

অনুবাদ:
"...যে ব্যক্তি এই মাসে (রমজানে) কোনো নফল নেক কাজ করবে, সে অন্য মাসের একটি ফরজের সমান সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করবে, সে অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ আদায়ের সমান সওয়াব পাবে।" (শুআবুল ঈমান, বায়হাকি)

ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর করুণা চাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন যে তাঁর কাছে চাওয়া হোক। আর সর্বোত্তম ইবাদত হলো বিপদে ধৈর্যের সাথে মুক্তির অপেক্ষা করা।"
যেহেতু দুয়ার ফজিলত এত মহান এবং রমজান মাস দুয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়, তাই মুমিনদের উচিত বেশি বেশি দুয়া করা।
গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট (হাইলাইটস):

নৈকট্য: আল্লাহ বান্দার ঘাড়ের শাহরগের চেয়েও বেশি কাছে।
গোপনীয়তা: যত বেশি গোপনে ও নিঃশব্দে দোয়া করা হবে, তা ইখলাসের তত নিকটবর্তী।
নিশ্চয়তা: আল্লাহ বান্দার হাত খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জা বোধ করেন।
সময়: রমজান এবং ইফতারের সময় দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়।

তোফায়েল আহমাদ 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ